ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৪:৪৬:০৮ PM

সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
09-10-2026 11:37:28 AM
সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নব্বইয়ের দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ছাত্রনেতাদের খুঁজে বের করে দলীয় কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি  বড় অংশ।রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, নাজমুল হুদা, আফজাল উদ্দিন খান ও জাফর ইমাম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজসহ পাচঁশতর মতো নেতাদের রাজনৈতিক পথচলা এবং ছাত্ররাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস এ আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তাঁদের প্রত্যেকের ছাত্ররাজনীতির পদ, দায়িত্ব পালনের সময়কাল ও পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করে প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা যেতে পারে। তাঁদের মতে, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এসব নেতার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগকে কাজে লাগানো গেলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও কার্যকর হতে পারে। 

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও অনেকে প্রত্যাশিত দায়িত্ব বা সুযোগ না পাওয়ায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন বলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ অবস্থায় তাঁদের চিহ্নিত করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসংগঠনগুলো বিভিন্ন দলের নেতৃত্ব তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বিএনপির ক্ষেত্রেও ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে অনেকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদে ভিপি, জিএস কিংবা ছাত্রসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, কর্মী ব্যবস্থাপনা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিজ্ঞতাকে দলীয় পরিকল্পনা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সাবেক ছাত্রনেতা হলেই যে প্রত্যেকের দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা সমান হবে, এমন নয়। বরং তাঁদের বর্তমান ভূমিকা, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং কাজের আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব বণ্টন করা প্রয়োজন।

জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রনেতাদের ভূমিকা
বিএনপির রাজনীতিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার উদাহরণ রয়েছে। রুহুল কবির রিজভী এবং আমানউল্লাহ আমান তাঁদের মধ্যে পরিচিত দুটি নাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতারা পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তাঁদের রাজনৈতিক পথচলা থেকে সাবেক ছাত্রনেতাদের দলীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে দলীয় পদ ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করে উল্লেখ করা জরুরি। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা অন্য সাবেক ছাত্রনেতাদের অবদান ও বর্তমান অবস্থাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

দলটির বিভিন্ন সময়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা একসময় ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং কর্মী সংগঠনে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলে অতীতের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি হতে পারে।

সুযোগ ও মূল্যায়নের প্রশ্ন
দীর্ঘদিন রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পরও অনেকে প্রত্যাশিত দায়িত্ব না পাওয়ার অভিযোগ করেন। সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি অংশের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি থাকলে তা দলীয় সাংগঠনিক যোগাযোগ ও নেতৃত্ব বিকাশের জন্য বিবেচনার বিষয় হতে পারে। তবে কারা দল থেকে দূরে রয়েছেন, তাঁদের কতজন সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে আগ্রহী এবং কার কী ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। সেখানে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দায়িত্ব পালনের সময়কাল, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং আগ্রহের ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এর ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন
সাবেক ছাত্রনেতাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের সমন্বয় গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যোগাযোগের ধরন এবং সাংগঠনিক চাহিদা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে অতীতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দলীয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতারা শুধু পদ-পদবি পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মী প্রশিক্ষণ, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, রাজনৈতিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণে পরামর্শ এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। একইভাবে দলের নীতিনির্ধারকদেরও তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাব মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ
বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাবেক ছাত্রনেতাদের সম্পৃক্ত করার প্রশ্নটি মূলত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতার ব্যবহার এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টনের সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, অতীতে ছাত্ররাজনীতিতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করে তাঁদের উপযুক্ত ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করা হলে দলীয় সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ আরও সুসংহত হতে পারে।

এ জন্য শুধু অতীতের পদ-পদবি বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়; বরং বর্তমান সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের বিকাশের সুযোগ অক্ষুণ্ন রেখে অভিজ্ঞ নেতাদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করতে হবে।

সাবেক ছাত্রনেতাদের অভিজ্ঞতা ও মেধা দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বৃহত্তর জনস্বার্থে কতটা কাজে লাগানো সম্ভব, তা নির্ভর করবে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির ওপর। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।