ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ১০:১৫:৩০ PM

দুই তরুণ নেতার সমন্বয়ে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

মান্নান মারুফ
05-10-2026 08:49:28 PM
দুই তরুণ নেতার সমন্বয়ে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে প্রশাসনিক ও নীতি নির্ধারণী কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী দায়িত্ব পালনে সমন্বয় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনার পরিধি বাড়ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে পরিচিত এই দুই নেতার কাজের ধরনেও রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা। তবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব পালনে বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক গতি বাড়তে পারে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং অধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি বিভিন্ন বিভাগের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বিস্তৃত। সরকারি তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে গণমাধ্যমের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক, সাংবাদিকতার পরিবেশ, চলচ্চিত্র ও সম্প্রচার খাতসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। ফলে মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের বিষয়টি। সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং গণমাধ্যমের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হলে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। নতুন নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডে এ ধরনের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি মতামত নেওয়ার মাধ্যমে মন্ত্রণালয় যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সেসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করে, তাহলে রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পেশাগত উন্নয়ন এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর—এই দুই ধারার সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় থাকলে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তবে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ই যথেষ্ট নয়। গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত নতুন উদ্যোগের সাফল্য নির্ধারণ করবে।

সব মিলিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্বের কার্যক্রম ঘিরে কর্মচাঞ্চল্যের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই ধারাকে কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ করতে পারেন, তা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে। তবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা গেলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসার সুযোগ রয়েছে।