ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১০:০১:১৯ PM

উন্নয়নে পাশে থাকার ঘোষণা জাইকা প্রেসিডেন্টের

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
06-07-2026 08:43:30 PM
উন্নয়নে পাশে থাকার ঘোষণা জাইকা প্রেসিডেন্টের

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সোমবার (৬ জুলাই) সফর শেষে জাইকার পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সফরের শুরুতে ড. তানাকা ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত দশম বার্ষিক স্মরণসভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাপানের সহায়তায় দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

তিনি সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্পায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সফরের অংশ হিসেবে ড. তানাকা একাধিক প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করে বলেন, এটি চালু হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দরও পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় তিনি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ইউএনএইচসিআর ও আইওএম পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সফরের শেষ দিনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ও জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ পরিদর্শন করেন।

ড. তানাকা আকিহিকো বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত দৃঢ়। আগামী দিনগুলোতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাইকা পাশে থাকবে।