ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৮:৪৫:১২ PM

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চরম অস্থিরতা

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
21-09-2026 07:52:32 PM
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চরম অস্থিরতা

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অরাজনৈতিক ও সেবামূলক ভাবমূর্তি আজ চরম সংকটের মুখে। পরিচালনা পর্ষদের পদ দখল, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বহিস্কৃত চিকিৎসকদের পদ দখল ও নির্বাচনকেন্দ্রিক চক্রান্ত:
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) থেকে দলবিরোধী ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বহিস্কৃত দুই চিকিৎসক—ডাঃ রফিকুল মাহবুব লাবু এবং ডাঃ মোফাকখারুল ইসলাম—ক্ষমতার পরিবর্তন ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে রেড ক্রিসেন্টের ম্যানেজিং বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে।

নিয়মানুযায়ী প্রতিটি জেলা ইউনিট থেকে নির্বাহী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে দুইজন করে প্রতিনিধি (ডেলিগেট) জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই দুই চিকিৎসক তাদের পিএস (সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী) কাজী আসাদ এবং ইউনিট অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক এনামুল হককে (সাবেক মন্ত্রী মোতাহার হোসেনের নিকটাত্মীয়) সাথে নিয়ে নীল নকশা প্রণয়ন করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে লাবু ও মোফাকখারকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাইস-চেয়ারম্যান ও ট্রেজারার পদে নির্বাচিত করা এবং পরবর্তীতে এক মাসের মধ্যে রেজুলেশন করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে পদটি দখল করা।

নির্বাচন বাতিল ও আইনি জটিলতা:
বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা এই চক্রান্তের বিষয়ে সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আবদুস সালামকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করেন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত সমুদয় কার্যক্রম বাতিল করে অফিস আদেশ জারি করেন। এর পরদিনই, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে এবং চেয়ারম্যান ও সোসাইটিকে বিতর্কিত করতে ওই চার সদস্যের পরামর্শে ভিসি ও ট্রেজারার আদালতে মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে অ্যাডহক ম্যানেজিং বোর্ডের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে গেছে।

৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ:
সোসাইটির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, উপ-পরিচালক এনামুল হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাজবাড়ী জেলা ইউনিটের আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথেও তার নাম জড়িয়ে আছে, যা দীর্ঘদিন চেপে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া তার ছোট বোন সোসাইটির আরএফএল ডিপার্টমেন্টে প্রভাবশালী ভূমিকায় রয়েছেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে, ‘কামাল’ নামের এক কর্মকর্তা—যাকে বিগত ২৫ বছর ধরে এক রাজনৈতিক বলয়ের অনুসারী হিসেবে দেখা গেছে—তিনি এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে যোগাযোগ খরচের নামে প্রতিদিন সোসাইটির তহবিল থেকে হাজার হাজার টাকা নিচ্ছেন।

এ ছাড়া চেয়ারম্যানের পিএস-২ আসিফ আল মাস ও এইচআর কোঅর্ডিনেটর নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীত রাজনৈতিক আনুগত্য গোপন করে মিথ্যা তোষামোদের মাধ্যমে পদে টিকে থাকার চেষ্টা এবং ভেতরের সংবেদনশীল তথ্য বাইরে পাচারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

শাস্তি ও অপসারণের দাবি:
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে এই অশুভ চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সারাদেশের সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি পুনর্বহাল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এনামুল হক, কামাল, কাজী আসাদ, আসিফ আল মাস ও নিজাম উদ্দিন সহ এই চক্রের সাথে জড়িত সকলের দ্রুত অপসারণ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ শাস্তির জোর দাবি উঠেছে।