ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৮:৪৮:০৭ PM

একচ্ছত্র স্বস্তি মেলেনি, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
19-09-2026 07:49:55 PM
একচ্ছত্র স্বস্তি মেলেনি, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা

সরকার গঠনের সাত মাস পার হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরেনি। সাময়িকভাবে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দূর হওয়ায় কিছু স্বস্তি দেখা গেলেও, তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের সংকট রয়ে গেছে আগের মতোই। অবকাঠামোগত বেহাল দশা, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের আক্ষেপ ও হতাশা কাজ করছে। এর ওপর রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘনীভূত হওয়া ত্রিমুখী অস্থিরতা দেশের ভাবমূর্তিকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনজীবনে চরম ভোগান্তি
সরকার প্রশাসনিক গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তার সুফল এখনো গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায়নি। দেশের বেশির ভাগ শহর ও গ্রামের রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বর্ষা পার হয়ে গেলেও সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক কিছু উন্নতি হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বাজারে আগুন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের দিন কাটছে চরম হাঁসফাঁস অবস্থায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি তৃণমূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অনাস্থা। কিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা দৃশ্যমান হলেও, বেশির ভাগ এলাকাতেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। জনগণের নিরাপত্তাবোধ পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় ভীতি ও শঙ্কা এখনো কমেনি।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও ভাবমূর্তি
সরকার পরিচালনায় ও মাঠের রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠছে। চাঁদাবাজি, দখলের অভিযোগ এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বিএনপির ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যদিও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তবুও মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

রাজনীতিতে ত্রিমুখী সংকট ও অনিশ্চয়তা
দেশের রাজনীতি এখন এক জটিল ত্রিমুখী মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান রক্ষা ও সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনার চাপ, অন্যদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন—জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (এনসিপি)-সহ অন্যান্য দলের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কৌশল মাঠের পরিস্থিতিকে সরগরম রাখছে।

এর ওপর যুক্ত হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রীর আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আলোচনা। এই তথ্য কেন্দ্র করে রাজনীতির অলিন্দে এক ধরনের টানটান উত্তেজনা কাজ করছে। বিরোধীদের অবস্থান এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কৌশল মিলিয়ে রাজনীতির মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

ফিরছে কি পুরোনো আতঙ্ক?
সার্বিক এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনীতির এই উত্তপ্ত অবস্থা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দেশ কি আবারও সেই পুরোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের পর্বেই ফিরে যাচ্ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাত মাস পূর্তির এই সময়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হলে সবার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করতে হবে। তা না হলে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি জন অসন্তোষ বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।