ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১০:৩২:২৪ PM

যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার শ্রাবন্তী

ডেস্ক রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
13-07-2026 08:37:33 PM
যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার শ্রাবন্তী

হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার তাঁকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে আদালত অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) প্রাসঙ্গিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কর্মরত। অভিযোগকারিণীও একই সংস্থার কর্মী। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল কাজের সূত্রে তিনি চ্যাটার্জিহাট এলাকার অভিযুক্তের বাড়িতে যান। সেখানেই অভিযুক্ত তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, গত ১২ জুন অভিযোগকারিণী চ্যাটার্জিহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে রবিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সোমবার তাঁকে হাওড়া আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বা আপ্তসহায়ক হিসেবে বিনোদন মহলে পরিচিত। তবে এই মামলায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি এবং তদন্তেও তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তের পেশাগত পরিচয়ের সূত্রেই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই ঘটনায় তাঁর কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনত দোষী বলা যায় না। বর্তমানে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার ওপরই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

পুলিশের দাবি, মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য বা প্রমাণ সামনে এলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত আপাতত জেল হেফাজতেই থাকবেন।