ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৩৩:৫৩ PM

শিক্ষা ভবনে ৪ আগস্টের মিছিল:বহাল ঐ ১০ জন

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
13-07-2026 12:43:15 PM
শিক্ষা ভবনে ৪ আগস্টের মিছিল:বহাল ঐ ১০ জন

২৪ সালের ৪ আগস্ট, অর্থাৎ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের একদিন আগে, রাজধানীর শিক্ষা ভবনের মূল ফটকে সরকারপন্থী স্লোগান দিয়ে একটি মিছিলে অংশ নেন শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই মিছিলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ওই মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরবর্তীতে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও এখনও অন্তত ৯ জন শিক্ষা ভবন ও মাউশির বিভিন্ন প্রকল্পে বহাল রয়েছেন। এছাড়া একজন কর্মকর্তা বর্তমানে ডেপুটেশনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছিল, তাদের অনেকেই এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলছে।

সূত্র জানায়, ৪ আগস্ট শিক্ষা ভবনের মূল ফটকে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলে "চলছে লড়াই, চলবে, শেখ হাসিনা লড়বে" এবং "শিক্ষামন্ত্রীর বাসায় হামলা কেন, খুনি খালেদা জবাব দে"—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

এদিকে, গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে "প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম আয়োজক কমিটিতে ‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ স্লোগানদাতা মাউশির ৫ কর্মকর্তা" শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই মিছিলে অংশ নেওয়া বাকি কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনও অনেকে শিক্ষা ভবন ও বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষা ভবন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)-এর উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ, একই প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. মেজবাহউদ্দিন মিনা, লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক, প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ, প্রকল্প কর্মকর্তা (প্রকিউরমেন্ট) আলী আজগর চৌধুরী, মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক ড. এইচ. এম. ফজলে রাব্বী, ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা এ বি এম আনোয়ার হোসেন, লেইস প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক বুলবুল আহমেদ এবং সরকারি কলেজসমূহে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ (ফোসেফ) প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক শরফুদ্দিন মুহাম্মদ আবু ইউসুফ।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা রূপক রায় বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদে উপ-পরিচালক হিসেবে ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ৪ আগস্টের ওই মিছিলের আয়োজনে তিনি অন্যতম সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ফলে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।