পর্ব – ৫
তবুও এই ভালোবাসা আমার কাছে খুবই পবিত্র।
কারণ কোনো স্বার্থ ছাড়াই—শুধুই ভালোবেসেছি তোমাকে, নিপা।
তোমাকে শুধুই মিস করি।
একবার দেখতে চাই—কথা না বললেও কোনো দুঃখ নেই।
তবুও… তোমাকে মিস করি।
স্পর্শ ছাড়াই তোমাকে দেখতে চাই।
ভালোবাসা কেমন হতে পারে—এটা আমি তোমার কাছ থেকেই শিখেছি।
আগে ভাবতাম, ভালোবাসা মানেই পাওয়া, একসঙ্গে থাকা, হাত ধরে পথ চলা।
কিন্তু এখন বুঝি—ভালোবাসা কখনো কখনো শুধু অনুভূতি হয়ে বেঁচে থাকে।
একটা নীরব উপস্থিতি।
যার কোনো দাবি নেই, কোনো শর্ত নেই—
শুধু থাকে অনুভুতি।
তুমি যখন আমাকে বারবার অবহেলা করতে, আমি ভেতর থেকে ভেঙে যেতাম।
হ্যাঁ, সত্যি ভেঙে যেতাম।
প্রতিটা অবহেলা যেন আমার বুকের ভেতরে একটা করে দাগ কেটে দিত।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে—সেই দাগগুলো ভালোবাসা কমায়নি।
বরং আরও গভীর করেছে।
আমি অনেকবার নিজেকে প্রশ্ন করেছি—
“কেন?”
কেন এত অবহেলার পরও আমি তোমাকে ভালোবাসি?
কেন এত কষ্ট পাওয়ার পরও তোমাকে ভুলতে পারি না?
উত্তরটা একটাই—
ভালোবাসা কোনো হিসাব জানে না।
এটা লাভ-ক্ষতির অঙ্ক থাকে না।
একদিন হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলাম—আমি তোমাকে একবার দেখব।
শুধু একবার।
কথা বলব না, কোনো দাবি করব না—
শুধু দূর থেকে দেখব।
তুমি কেমন আছো, এখন কেমন দেখাচ্ছে তোমাকে —
এইটুকু জানলেই হবে।
আমি জানতাম, এটা ঠিক না।
তোমার নতুন জীবনে এভাবে ঢুকে পড়া উচিত না।
তবুও… মনকে বোঝানো যায়নি।
অনেক খোঁজখবর নিয়ে জানলাম—তুমি মাঝে মাঝে পুরনো শহরে আসো।
তোমার বাবার বাড়িতে।
সেই আশাতেই আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।
দিন যায়, সপ্তাহ যায়—
আমি প্রতিদিন সেই রাস্তায় হেঁটে যাই।
হয়তো আজ দেখা হবে।
হয়তো আজ তোমাকে এক ঝলক দেখতে পাব।
একদিন বিকেলে—
হঠাৎ করে তোমাকে দেখলাম।
তুমি রিকশা থেকে নামছো।
এক মুহূর্তের জন্য আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
এতদিন পর…
তুমি একটু বদলে গেছো।
মুখে একটা পরিণত ভাব, চোখে একটু ক্লান্তি।
কিন্তু সেই হাসি—
সেই মৃদু, শান্ত হাসি—
একদম একই আছে।আমি দূর থেকে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
তুমি আমাকে দেখোনি।
দেখলেও হয়তো চিনতে না।
আমি শুধু তাকিয়ে ছিলাম।
এই কয়েক সেকেন্ড ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়।
মনে হচ্ছিল—সময়টা থেমে যাক।
এই মুহূর্তটা যেন শেষ না হয়।
তুমি ঘরের ভেতরে ঢুকে গেলে।
আর আমি… আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।
অনেকক্ষণ।
সেদিন রাতে আমি অনেক কেঁদেছিলাম।
কিন্তু এই কান্নাটা কষ্টের ছিল না।
এটা ছিল এক ধরনের শান্তির কান্না।
কারণ আমি তোমাকে দেখেছি।
একবার।
এটাই আমার জন্য অনেক।
নিপা, তুমি জানো?
আমি এখন আর কিছু চাই না।
না তোমার ভালোবাসা, না তোমার কাছে আসা।
আমি শুধু চাই—
তুমি ভালো থাকো।
তুমি যখন আমাকে অবহেলা করতে—
আমি কষ্ট পেতাম, ভেঙে যেতাম।
কিন্তু কখনো তোমাকে দোষ দিইনি।
কারণ আমি জানি—
ভালোবাসা জোর করে পাওয়া যায় না।
আমি যদি তোমার জীবনে প্রয়োজনীয় না হই—
তাহলে আমাকে থাকার কোনো অধিকার নেই।
এই সত্যটা আমি এখন মেনে নিয়েছি।
তবুও, একটা জিনিস বদলায়নি—
আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি।
আগের মতোই।
হয়তো আরও বেশি।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি—
তুমি যদি হঠাৎ করে আমার সামনে এসে দাঁড়াও,
আমি কী বলব?
হয়তো কিছুই বলতে পারব না।
শুধু চুপ করে তাকিয়ে থাকব।
কারণ আমার সব কথাই তো তুমি জানো।
না বলা কথাগুলোও।
আমি এখন তোমার স্মৃতির সঙ্গে বাঁচতে শিখে গেছি।
এই স্মৃতিগুলোই এখন আমার সঙ্গী।
একটা গান, একটা রাস্তা, একটা বিকেল—
সবকিছুতেই তুমি আছো।
আমি আর পালানোর চেষ্টা করি না।
আমি মেনে নিয়েছি—
তুমি আমার জীবনের একটা অংশ।
যাকে মুছে ফেলা সম্ভব না।
নিপা, তুমি যদি কখনো জানতে—
তোমাকে আমি কতটা পবিত্রভাবে ভালোবেসেছি!
কোনো স্বার্থ ছাড়াই, কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই।
শুধু ভালোবেসেছি।
তুমি আমার কাছে শুধু একজন মানুষ না।
তুমি একটা অনুভূতি।
একটা অনুভূতি, যা আমাকে প্রতিদিন বাঁচিয়ে রাখে—
আবার প্রতিদিন একটু একটু করে শেষও করে দেয়।
আমি জানি—
এই গল্পের কোনো সুখের সমাপ্তি নেই।
কিন্তু তবুও, এই গল্পটাই আমার জীবন।
তুমি আমার না—
তবুও তুমি আমার।
এই অদ্ভুত সত্যটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
আমি তোমাকে স্পর্শ করতে চাই না।
শুধু দেখতে চাই।
দূর থেকে।
নিঃশব্দে।
এই দূরত্বটাই এখন আমাদের সম্পর্ক।
একটা সম্পর্ক—
যার কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই।
তবুও এটা আছে।
নিপা, তুমি যেখানে থাকো—ভালো থেকো।
এইটাই আমার শেষ কথা না—
প্রতিদিনের প্রার্থনা।
আর আমি?
আমি এখনো তোমাকে মিস করি।
প্রতিটা মুহূর্তে।
প্রতিটা নিঃশ্বাসে।
এই মিস করাটাই এখন আমার ভালোবাসা।
এই অনুভূতিটাই আমার বেঁচে থাকা।
(চলবে…)