ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৬:২৬:৪৬ PM

ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক:সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
29-07-2026 04:39:06 PM
ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক:সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল

মো. শহিদুল ইসলাম, যিনি ‘শহিদুল ইসলাম বাবুল’ নামেই অধিক পরিচিত, বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি ফরিদপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি নিবেদিত মনোভাবের কারণে তিনি ফরিদপুরসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন পরিচিত মুখ।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলের একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির জন্য প্রতিকূল সময়গুলোতে শহিদুল ইসলাম বাবুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি বহুবার নির্যাতন, হয়রানি ও হামলার শিকার হন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নেতাকর্মীদের পাশে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

২০২২ সালে ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের একটি কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তিনি রক্তাক্ত অবস্থায়ও কর্মীদের সাহস জুগিয়েছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন। তার এই আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন সাহসী ও সংগ্রামী নেতা হিসেবে আরও বেশি সম্মান অর্জন করেন।

রাজনৈতিক সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে তিনি ফরিদপুর-৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার এই বিজয়কে অনেকেই দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও জনগণের প্রতি আন্তরিকতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

শহিদুল ইসলাম বাবুলের ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক আচরণ। তিনি হাসিমুখেই নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেন। তার কাছে যে-ই কোনো সমস্যা নিয়ে আসেন, তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার আন্তরিক চেষ্টা করেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিও তার রয়েছে বিশেষ দায়বদ্ধতা। তিনি নিয়মিত তৃণমূলের কর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং মাঠপর্যায়ের কোনো কর্মী সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তা করার চেষ্টা করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার এই নিবিড় সম্পর্ক তাকে একজন জনপ্রিয় সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দলীয় কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

ফরিদপুর-৪ জাতীয় সংসদীয় আসনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ২১৪ নম্বর আসন। এই আসনের আওতায় ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা, সদরপুর উপজেলা এবং চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃষি, ব্যবসা ও নদীবিধৌত জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ আসনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

সংসদ সদস্য হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন, যা তাকে একজন জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতার কারণে শহিদুল ইসলাম বাবুল বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও তিনি জনকল্যাণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন—এমন প্রত্যাশা তার সমর্থক ও সাধারণ মানুষের।