ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৫৫:৩৯ AM

কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
25-07-2026 09:06:01 PM
কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি

নানা গুঞ্জন ও রাজনৈতিক আলোচনার পর দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তন শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় কৌশল, সাংবিধানিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কয়েকটি নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে উচ্চারিত হচ্ছে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের সংকটকালীন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে অনেকেই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল ও সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং তুলনামূলকভাবে সর্বজনস্বীকৃত ব্যক্তি হিসেবে মির্জা ফখরুলের অবস্থান শক্তিশালী।

এছাড়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও আলোচনায় রয়েছে। নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না পাওয়ায় তাদের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সম্ভাবনা

রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থেকেও কয়েকটি নাম আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নাম বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হয়েছে।

তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে জানান, অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না; তিনি দারিদ্র্য বিমোচন, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠন এবং সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর চলমান কাজেই মনোনিবেশ করবেন।

দলীয় নাকি অরাজনৈতিক ব্যক্তি?

বিএনপির একটি বড় অংশের মত, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ও আদর্শনিষ্ঠ কোনো নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত, বিশ্বস্ত এবং দলের রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী।

তার মতে, একজন রাজনীতিবিদের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকে, যা রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন বিএনপির ভেতর থেকেই হওয়া উচিত।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে এবং যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এ ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন এবং এ বিষয়ে সরকারের আলাদা কোনো ভূমিকা নেই।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই অনুযায়ী বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধানে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নয়; জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।

বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যাকে মনোনয়ন দেবে, তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। বিরোধী শিবির থেকে শক্তিশালী প্রার্থী না এলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের আগামী সেপ্টেম্বর অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।