ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৪০:৪৩ AM

নিলামে দুর্নীতি, আলোচনায় কাওসার মোর্শেদ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
23-07-2026 07:53:24 PM
নিলামে দুর্নীতি, আলোচনায় কাওসার মোর্শেদ

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১৪ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ২১টি চারতলা পুরাতন ভবনের নিলামকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মিরপুর গৃহসংস্থান বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিলাম প্রক্রিয়ায় প্রচলিত বিধি অনুসরণ করা হয়নি এবং এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী দলিল হোসেন তার লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ৯ জুলাই দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে একই দিন সকাল ১১টার মধ্যেই নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং নিলাম সম্পন্ন হওয়ার মধ্যে কার্যত কোনো যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান না থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলার সম্ভাব্য আগ্রহী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।

আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি নিলাম পরিচালনার ক্ষেত্রে সাধারণত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি গ্রহণ, দরপত্র সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নিলামের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে নিলামটি প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১৪ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ২১টি চারতলা ভবনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা। অথচ বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ভবনগুলো মাত্র আড়াই কোটি টাকায় নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। যদিও এই তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও অভিযোগকারী বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগের তথ্য সঠিক হলে সরকার প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নিলাম প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা জরুরি বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি পুরো নিলাম কার্যক্রম বাতিল করে পুনরায় উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিলাম আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সকল আগ্রহী ব্যক্তি সমান সুযোগে অংশ নিতে পারেন এবং সরকার প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য পায়।

লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। তদন্তে যদি কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিলাম প্রক্রিয়ায় যথাযথ সময় প্রদান, সকল সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দর নিশ্চিত করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায় এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসে। ফলে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত শুধু একটি ঘটনার সুরাহার জন্যই নয়, ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জনআস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মিরপুর গৃহসংস্থান বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং তদন্তের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট মহলসহ সাধারণ মানুষের নজর রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।