ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১১:১২:৩১ PM

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ৪৭ লাখ টাকার দুর্নীতি

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
22-07-2026 09:12:27 PM
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ৪৭ লাখ টাকার দুর্নীতি

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনা, রোগীসেবা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং সাধারণ রোগীরা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্ট দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্ল্যান্ট থেকেই হাসপাতালের অধিকাংশ অক্সিজেনের চাহিদা পূরণের কথা থাকলেও বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্ল্যান্টটি দ্রুত সচল না করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তবে কেন প্ল্যান্টটি অচল রয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের প্যাথলজি ও ল্যাবরেটরি বিভাগ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি যন্ত্রপাতি অকার্যকর থাকায় বা ব্যবহার না করায় অনেক রোগীকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হচ্ছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) রক্ষণাবেক্ষণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনেক এসি ব্যবহার অনুপযোগী হলেও কাগজপত্রে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের বিল দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের জেনারেটর ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করেও। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর সচল না থাকলেও জ্বালানি ব্যয়ের বিল উত্তোলন করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ না করে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে বিল-ভাউচারে পূর্ণ সরবরাহ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কিছু বহিরাগত ব্যক্তি রোগীদের ট্রলি, বেড বা অন্যান্য সেবা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছেন। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলেও ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার জন্য বাইরে যেতে হয়। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফিরোজ জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

উল্লেখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।