ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১২:২৭:৩৭ PM

মানুষের সেবায় এক কর্মব্যস্ত দিন ইয়াসের খানের

মান্নান মারুফ
29-07-2026 10:45:11 AM
মানুষের সেবায় এক কর্মব্যস্ত দিন ইয়াসের খানের

রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রতিদিন ব্যস্ত সময় পার করেন যুবনেতা ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং নানা সমস্যার সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের জন্য ব্যস্ত থাকা যেন তাঁর প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

দিনের শুরুতেই তাঁর বাসভবনের সামনে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ এসেছেন নিজ জেলা থেকে, কেউ রাজধানী ঢাকা থেকে, আবার কেউ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রত্যেকেরই রয়েছে কোনো না কোনো সমস্যা, প্রয়োজন বা প্রত্যাশা। প্রতিমন্ত্রী সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন, মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যার ধরন অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করেন। কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে যোগাযোগ করেন, আবার কোনো সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়ে থাকেন। তাঁর কাছে আসা কাউকেই নিরাশ না করার চেষ্টা করেন তিনি।

সকালের এই গণসাক্ষাৎ শেষে তিনি ছুটে যান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে। সেখানে শুরু হয় সরকারি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততা। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পর্যালোচনা, নীতিনির্ধারণী আলোচনা এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সবকিছুই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করেন তিনি। তবে সরকারি ব্যস্ততার মাঝেও সাধারণ মানুষের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখেন, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ তাঁদের কথা সরাসরি তুলে ধরতে পারেন।

মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে বৈঠক করতে হয় তাঁকে। দেশের তথ্য ও সম্প্রচার খাতের উন্নয়ন, চলমান প্রকল্প, নীতিগত বিষয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনা চলে। পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়মূলক কাজও তাঁর দৈনন্দিন দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় দুপুরের খাবার খাওয়ার সুযোগও হয়ে ওঠে না। মানুষের সমস্যার সমাধান, সরকারি দায়িত্ব এবং একের পর এক সভা-সেমিনার ও বৈঠকের চাপে কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়, তা অনেক সময় তাঁর খেয়ালই থাকে না। দায়িত্ব পালনের প্রতি তাঁর একাগ্রতা এবং কর্মনিষ্ঠা সহকর্মীদের কাছেও প্রশংসিত।

সন্ধ্যার পরও শেষ হয় না তাঁর কর্মব্যস্ততা। বাসায় ফিরে আবার শুরু হয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ। এলাকার বাসিন্দা, দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নানা সমস্যায় থাকা মানুষজন তাঁদের প্রয়োজন নিয়ে তাঁর কাছে আসেন। গভীর রাত পর্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সবার কথা শোনেন তিনি। প্রতিটি সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। ব্যক্তিগত ক্লান্তির চেয়ে মানুষের উপকার করাকেই তিনি অধিক গুরুত্ব দেন।

সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, সেমিনার, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও প্রতিটি দায়িত্ব শান্ত, ধীরস্থির ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন।

তাঁর এই নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ তাঁকে অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলেছে বলে অনেকেই মনে করেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনসেবাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কারণে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

প্রতিদিনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানুষের সমস্যা সমাধানের আন্তরিক চেষ্টা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী এমপির দিনটি যেন জনসেবা ও দায়িত্ববোধের এক ব্যস্ত অধ্যায়ে পরিণত হয়। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকার এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই তাঁকে একজন কর্মঠ ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে বলে তাঁর সমর্থকরা মনে করেন।