ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
সময়: ০৫:৪১:২৬ PM

মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির ১১ জয়ী প্রার্থী

কলকাতা রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
07-05-2026 04:22:35 PM
মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির ১১ জয়ী প্রার্থী

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন পরিষদীয় দলকে নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ডাকা প্রথম বৈঠকেই অনুপস্থিত থাকলেন অন্তত ১১ জন জয়ী প্রার্থী। বুধবার কালীঘাটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে একসঙ্গে এতজন বিধায়কের গরহাজির থাকা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, অনুপস্থিত কয়েকজন জয়ী প্রার্থীকে দলনেত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছিলেন নিজেদের এলাকায় থেকে ‘আক্রান্ত’ মানুষের পাশে থাকতে। তবে দলীয় ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, মমতার উপস্থিতিতে নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকে এতজনের অনুপস্থিতি অনেককেই বিস্মিত করেছে।

অনুপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন বীরভূমের হাসনের কাজল শেখ, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বায়রন বিশ্বাস, ভরতপুরের মুস্তাফিজুর রহমান (সুমন), উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকি-সহ আরও কয়েকজন জয়ী প্রার্থী।

বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের এক প্রথম সারির নেতা বলেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বেনজির। একমাত্র কাজল শেখের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনায় একজনের মৃত্যুর কারণে তিনি আসতে পারেননি। কিন্তু বাকিদের অনুপস্থিতির কারণ স্পষ্ট করে বলা হয়নি।”

আর এক জয়ী প্রার্থীর কথায়,
“দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে এতজনের অনুপস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি করেছে। দূরের জেলা থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের আপাতত কলকাতাতেই থাকতে বলা হয়েছে।”

দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে

নির্বাচনে পরাজয়ের পর গত কয়েক দিনে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের একাংশ প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। প্রবীণ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, খগেশ্বর রায়ের পাশাপাশি একাধিক পুরসভার প্রাক্তন ও বর্তমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলের সঙ্গে যুক্ত নির্বাচনী কৌশল সংস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন অনেকে।

এই পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ সামাল দিতে ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র এবং শুভাশিস চক্রবর্তীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের দাবি, বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,
“যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

বৈঠকের পর তৃণমূলের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকেও একটি বিবৃতি পোস্ট করা হয়। সেখানে বলা হয়, সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে নেতাদের ব্যক্তিগত মতামত দলের অবস্থান নয়।

বিরোধী দলনেতা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

কালীঘাটের বৈঠকের আগে দলের অনেক জয়ী প্রার্থী আশা করেছিলেন, এ দিন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিরোধী হুইপের নাম ঘোষণা করা হবে। তবে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

তবে জয়ী বিধায়কদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা বিধানসভায় প্রথম দিন কালো পোশাক পরে যাবেন। ভোট গণনায় ‘লুট’ ও ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভোট গণনা নিয়ে ফের সরব মমতা

পরিষদীয় দলের বৈঠকে দীর্ঘ ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।

ভোট গণনায় ‘কারচুপি’র অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাওয়ার জন্য বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।

এছাড়া, আগামী ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ভোট-পরবর্তী প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ওই দিনই বিজেপি সরকারের মন্ত্রীদের শপথগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানানোর নির্দেশ

বৈঠকের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“অভিষেককে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। ও কঠোর পরিশ্রম করেছে। দলের জন্য ওর অনেক অবদান রয়েছে। সবাই উঠে দাঁড়িয়ে ওকে সম্মান জানান।”

এরপর উপস্থিত জয়ী প্রার্থীরা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে অভিনন্দন জানান।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেকের নির্দেশ মেনেই সবাইকে কাজ করতে হবে বলেও স্পষ্ট করেন মমতা। তিনি বলেন, কেউ যদি অভিষেকের নেতৃত্ব মানতে না চান, তবে তিনি দল ছাড়তে পারেন।