ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬,
সময়: ১০:০০:৫১ PM

বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে জামালপুরের কাঁচা মরিচ

ষ্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
13-04-2026 07:36:41 PM
বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে জামালপুরের কাঁচা মরিচ

দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে জামালপুরের উৎপাদিত গাঢ় সবুজ মরিচ। স্থানীয় কৃষকদের ঘামঝরা পরিশ্রমে ফলানো এই মরিচ এখন রপ্তানি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়, বাড়াচ্ছে বৈদেশিক আয়ের সম্ভাবনা।চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে উৎপাদিত এই ফসল শুধু দেশের চাহিদাই মেটাচ্ছে না, তৈরি করছে বৈশ্বিক বাজারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। জামালপুরের চরাঞ্চলের নদীর বুকে জেগে ওঠা চরভূমিতে মরিচ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।বৈরি আবহাওয়ায় এবার মরিচের আবাদ কম হলেও বালিজুরি ও হাইব্রিড মরিচ বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় কিছুটা দাম পেয়ে খুশি চাষীরা।

মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুরী বাজার থেকে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে কর্মব্যস্ততা।

মাঠ থেকে প্রতি কেজি মরিচ চলমান বাজার দর থেকে ৪-৫ টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করছে পাইকাররা। পরে মোড়কজাত করে চট্টগ্রাম পোর্ট দিয়ে পাঠানো হয় মালয়েশিয়াতে।
প্রতি কার্টুনে থাকছে নয় কেজি মরিচ।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৭০০ মেট্রিক টন মরিচ। সাধারণ বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২৮ টাকা হলেও বিদেশের বাজারের জন্য প্রতি কেজি মরিচের দাম দেওয়া হচ্ছে ৩৪ টাকা। এতে জামালপুরের কৃষক এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

স্থানীয় কৃষক আমিনুল রহমান বলেন, এই বছর আমাদের ভালো উৎপাদন হয়নি, বৃষ্টিতে গাছ মরে গেছে। তবে দাম এখন একটু ভালো যাচ্ছে। এখন আবার শোনা যাচ্ছে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে, দাম পাবো।

আরেক কৃষক রানা মিয়া বলেন, বিদেশে গেলে তো আমাদেরই ভালো। আগে রপ্তানি হতো, পরে বন্ধ হয়ে গেছিল, তখন দাম কমে গেছিল। এখন আবার যাচ্ছে, আমরা ন্যায্যদাম পাবো।

কৃষক নাহিদ ইসলাম বলেন, দিনে দিনে সারের দাম বাড়ছে, ফলন বেশি না হলে খরচও উঠে না। এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, দামও মোটামুটি ভালো হচ্ছে, খরচ উঠবে ইনশাআল্লাহ।

রপ্তানিকারক সোহেল খন্দকার বলেন, রপ্তানি হওয়ায় দেশে ডলার আসছে এবং প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। মালয়েশিয়ার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সঠিক মান বজায় রাখা গেলে এই পণ্যের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, মালয়েশিয়ায় কিছু কোম্পানি ও এক্সপোর্টারের মাধ্যমে জামালপুর ও মাদারগঞ্জ থেকে মরিচ রপ্তানি হচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় বাজারের তুলনায় ৩-৪ টাকা বেশি দামে কিনে নিচ্ছে রপ্তানিকারকরা। কৃষিপণ্য যেন মানসম্মত ও রপ্তানিযোগ্য হয়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

জেলায় ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন।