ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ১১:৩৯:০১ PM

জনপ্রিয় ও দক্ষদের কাজে লাগানোর আহ্বান

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
04-10-2026 08:57:02 PM
জনপ্রিয় ও দক্ষদের কাজে লাগানোর আহ্বান

দেশের রাজনীতিতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করতে বিএনপিকে তৃণমূলের জনপ্রিয়, দক্ষ, শিক্ষিত, কৌশলী ও সাহসী নেতাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সারাদেশে দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন এমন কয়েক হাজার সিনিয়র ও যুব নেতা-কর্মী রয়েছেন, যাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয় এবং সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্য। এসব নেতার যোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে দল আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের ওপর নির্ভর না করে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্বের কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য—তাদের চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়বে, অন্যদিকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে।

তারা মনে করেন, বিএনপির মধ্যে এমন অনেক নেতা রয়েছেন যারা শিক্ষিত, বুদ্ধিমান, রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শী এবং সাংগঠনিক কৌশল বোঝেন। একই সঙ্গে মাঠের রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতিও রয়েছে। এসব নেতাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। পাশাপাশি যোগ্য ও সক্রিয় কর্মীদের মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মনোবলও বাড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু পদ-পদবি বা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করলেই হবে না। একজন নেতা কতটা জনপ্রিয়, কর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন এবং সংকটের সময়ে তিনি কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাদের ভাষ্য, দলের প্রতিটি এলাকায় নেতৃত্বের একটি সুস্পষ্ট দায়িত্ববণ্টন থাকা দরকার। যেসব এলাকায় সংগঠন তুলনামূলক দুর্বল, সেসব এলাকায় দক্ষ ও সাংগঠনিকভাবে সক্ষম নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। আবার যেসব এলাকায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী, সেখানে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি ও তাদের প্রশিক্ষণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং তৃণমূলকে আরও সক্রিয় করা। কেন্দ্র থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত যেন দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকাশ জরুরি। একই সঙ্গে কর্মীদের সঙ্গে নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় বাড়ানোও প্রয়োজন।

তারা আরও মনে করেন, বিএনপির মধ্যে এমন প্রায় দুই শতাধিক নেতা রয়েছেন, যারা তুলনামূলকভাবে কৌশলী, সাহসী, দক্ষ এবং মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়। যোগ্যতা অনুযায়ী এসব নেতাকে বাছাই করে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত আনুগত্য কিংবা অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন যোগ্য নেতাকে সঠিক এলাকার দায়িত্ব দিয়ে তার কাজের মূল্যায়ন করা হলে দলের মধ্যে জবাবদিহিতাও তৈরি হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে যারা মেধাবী, শিক্ষিত, সংগঠক হিসেবে দক্ষ এবং নতুন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী, তাদেরও নেতৃত্বের বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। এতে দলের পুরোনো অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের উদ্যম—দুটির সমন্বয় ঘটবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে দলটি কীভাবে তার তৃণমূলের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে তার ওপর। জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের চিহ্নিত করে দায়িত্ব দেওয়া, দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন করা এবং সাংগঠনিকভাবে দুর্বল এলাকাগুলোতে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারলে দলটি আরও সুসংগঠিত হতে পারে।

তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, দক্ষ, কৌশলী ও সাহসী নেতাদের পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও আস্থা বাড়বে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়তা করতে পারে।