ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৫:৫৪:০৭ AM

কৃষক দলের মিছিলে সরকারি কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
27-09-2026 07:21:36 PM
কৃষক দলের মিছিলে সরকারি কর্মকর্তা

সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সেই আইন বুড়ো আঙুল দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মোহাম্মদ হাশেম আলী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের পার্বতীপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি পার্বতীপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। উক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অগ্রভাগে থেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাশেম আলী।

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হয়ে প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের ব্যানারে শোভাযাত্রা ও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদ হাশেম আলী সাবেক শাসক দল আওয়ামী লীগের শাসনামলে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) হিসেবে পদোন্নতি ও নিয়োগ পান। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সুবিধা হাসিল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সেই সময়ে সরকারের টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্যের ডিলারশিপও বাগিয়ে নেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি খোলস পাল্টে এখন তিনি কৃষক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাকর্মী ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ২৫(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে কিংবা সহযোগিতা করতে পারবেন না। চাকরিবিধি অনুযায়ী এটি একটি গুরুতর বিভাগীয় অপরাধ, যা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়ে।

একজন গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দলের মিছিলে অংশ নিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা অবিলম্বে এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মোহাম্মদ হাশেম আলীর মোবাইল ফোনে (০১৭৫৭-৫৭-১) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপজেলা কৃষক দলের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উক্ত কর্মসূচিতে ওই কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল।