ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৫:০১:৫৯ PM

পণ্য আনলোডের নামে কোটি টাকার দুর্নীতি

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
22-09-2026 04:24:39 PM
পণ্য আনলোডের নামে কোটি টাকার দুর্নীতি

দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় লেবার হ্যান্ডেলিংয়ের নামে চলছে সীমাহীন লুটপাট। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলে এখনো রয়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের লেবার হেন্ডেলিং। আর এর মাধ্যমে এ স্থলবন্দরে আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের পকেট থেকে বছরে প্রায় ২৩ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের পকেটে।

জানা গেছে, এ স্থলবন্দরে আমদানিকারকদের নিকট থেকে আমদানি পণ্যের লোড বাবদ ৭৬ টাকা ৮৩ পয়সা এবং আনলোড বাবদ ৭৬ টাকা ৮৩ পয়সা প্রতি টনে নেওয়া হলেও কোনো প্রকার কাজ না করেই পুরো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট ও আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (এটিআই) নামের লেবার হ্যান্ডেলিং কোম্পানি। আর আলোচিত এই লেবার হ্যান্ডেলিং প্রতিষ্ঠান আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (এটিআই) এর স্বত্বাধিকারী বুড়িমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন ওরফে বাবুল হোসেন। দেশের অধিকাংশ বিতর্কিত আওয়ামী লীগের নেতা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ফেলে নিরুদ্দেশ হলেও বাংলাবান্ধায় আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (এটিআই) এর রমরমা ব্যবসা চলছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২৫/২০২৬ অর্থ বছরে আমদানির পরিমাণ ১৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ টন। লোড এবং আনলোড বাবদ মোট ১৫৩ টাকা ৬৬ পয়সা হিসাবে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আনলোড বাবদ আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ৭২ টাকা।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, সেবা না দিয়েও অর্থ আদায় করছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। লোড আনলোড এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতি টনে ১৯১ টাকা আদায় করা হলেও মালামাল লোড করে দেওয়া হয় না। এতে তাদের পুনরায় লোডিং খরচ গুণতে হয়। ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায় লোকসান গুণতে হচ্ছে। আর দিন দিন লোকসানে পড়ে স্থলবন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।

অভিযোগে আরও জানা যায়, বিগত পতিত সরকারের আমলে ২০১৮ সালে রাতের আঁধারে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (এটিআই) নামে অখ্যাত একটি কোম্পানিকে লেবার হ্যান্ডেলিং কাজের নিমিত্তে কার্যাদেশ দেয়। সে সময় এ কার্যাদেশ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রামও হয়। এসবে কোনো সুফল আসেনি। কারণ এই এটিআই এর পেছনে ছিল স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও লুটেরা চক্র। এরপরও বছরের পর বছর ধরে এই চক্রটিকে দায়িত্ব দিয়ে আসছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন, দলীয় নেতা সিএন্ডএফ সদস্য ও কয়েকজন ব্যবসায়ী ও এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। বর্তমানে নতুন করে জড়িয়ে পড়ছেন আরও কিছু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমদানিকারকদের কাছ থেকে লোড-আনলোডের টাকা বন্দর কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করে। তবে আমাদেরকে আনলোড বাবদ ৪২ থেকে ৪৩ টাকা দেওয়া হয়। আর লোড না করা সত্ত্বেও বাকি টাকা আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (এটি আই) ও স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ হাতিয়ে নেয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লেবার হ্যান্ডেলিং কোম্পানি আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন বাবুলকে ফোন করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা আমদানিকারকদের পণ্য লোড করে দিতে চাই। কিন্তু ব্যবসায়ীরাই ইয়ার্ডে পাথর লোড করে নিতে চায় না। তবে লোডিং বাবদ আমদানিকারকদের ৩২ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। আর বাকি টাকা বন্দর চার্জ, সরকারি ট্যাক্স ভ্যাট বাবদ কর্তৃপক্ষ রেখে দেয়।