ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৮:৩৬:৩০ PM

চাকরির প্রলোভনে নারী ফাঁদে,আক্তার রহস্য

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
14-09-2026 07:20:48 PM
চাকরির প্রলোভনে নারী ফাঁদে,আক্তার রহস্য

ক্ষমতা যখন নৈতিকতার সীমারেখা অতিক্রম করে, তখন সম্পর্ক মানুষকে নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। আর সেই সম্পর্ক যখন প্রলোভন, আবেগ, নির্ভরতা ও ভয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়, তখন সেটিই রূপ নিতে পারে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও বিআইডব্লিউটিএর মাওয়া নদীবন্দর অফিসের মুদ্রাক্ষরিক মো. আক্তার হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে এমনই এক চিত্র সামনে এসেছে।
অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রথমে নারীদের সঙ্গে ফোন নম্বর আদান-প্রদান এবং পরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন আক্তার হোসেন। একপর্যায়ে চাকরি দেওয়া, কোটিপতি বানানো কিংবা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরী নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতেন আক্তার। এরপর তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন উপহার দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও আইফোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, আবার কাউকে প্রিমিও জি মডেলের প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি উপহার দেওয়ার কথা বলে মনোরঞ্জন করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রথমে তৈরি করা হতো আস্থার পরিবেশ। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে উঠত ব্যক্তিগত নির্ভরতা। পারিবারিক সংকট, দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ কিংবা আর্থিক অনিশ্চয়তার সময় নারীদের টার্গেট করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর ক্ষেত্রে এসব দুর্বলতাকে বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

শিলাকে চাকরির প্রলোভন, পরে সম্পর্ক

অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী শিলা কাজের সন্ধানে ঢাকা আসতেন। একদিন ভুল করে শিলার ফোন থেকে আক্তার হোসেনর নম্বরে একটি মিস কল যায়। এরপর দুজনের মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিনের মধ্যেই চাকরি দেওয়ার কথা বলে শিলাকে ঢাকার একটি বাসায় নিয়ে যান আক্তার হোসেন। সেখানে তাকে জোর করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখানো এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ঢাকার বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
শিলার অভিযোগ, আক্তার হোসেন তাকে বিয়ে করবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার বাসায় যেতেন এবং মাঝে মধ্যে রাতও কাটাতেন।
একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় শিলার বাসায় স্থানীয়রা আক্তার হোসেনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তার একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে আক্তার হোসেনকে ক্ষমা চেয়ে বলতে শোনা যায়—‘আমাকে মাফ করে দেন। আমার ভুল হয়েছে। আমার স্ত্রী-সন্তান আছে। আমার স্ত্রী একজন সরকারি চাকরিজীবী। আমি শিলাকেও বিয়ে করব।’
পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আক্তার হোসেন সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও কয়েক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ

শুধু শিলা নন, মানিয়া, তানিয়া ও ফারিয়াসহ বিআইডব্লিউটিএতে কর্মরত কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গেও আক্তার হোসেনর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বর্ণনায় বলা হয়েছে, আক্তারের ছোবল থেকে সহকর্মীরাও রেহাই পাননি।
অভিযোগকারীদের দাবি, একই ধরনের কৌশলে একের পর এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের মনোরঞ্জনের শিকার করা হয়েছে।

সহকর্মীর বক্তব্য

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএর পারসোনস ডিপার্টমেন্টের উচ্চমান সহকারী সিনথিয়া। তিনি বলেন, আক্তার হোসেনর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, “আমি বিবাহিত, আক্তার হোসেনর ভাইয়ের সঙ্গে চাকরি করি। তবে আমার বাসায় আসা-যাওয়া করেন না। আমার বোনের সঙ্গে তার পরিচয় আছে। তবে তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, আমি জানি না।”

আক্তার হোসেনর দাবি, ‘সব ষড়যন্ত্র’

অভিযোগের বিষয়ে মো. আক্তার হোসেন বলেন, “আমি নারীদেরও ফাঁদে ফেলি না। সব ষড়যন্ত্র। আমি চাষাঢ়ায় আটক হয়েছিলাম, এটা সত্য। শিলা আমার খুব কাছের।”
আপত্তিকর ভিডিওর বিষয়ে তিনি বলেন, “ওটা আমার ছবি। নানা ঘটনা আছে, একসময় বলব।”
অন্যদিকে, শিলার বিষয়ে আক্তার হোসেনের বক্তব্য-শিলা তার খুব কাছের এবং তিনি চাষাঢ়ায় আটকের ঘটনা সত্য বলে স্বীকার করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্য অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।