ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৯:৫৬:৫২ PM

ময়মনসিংহের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অপপ্রচার

মান্নান মারুফ
14-09-2026 08:35:29 PM
ময়মনসিংহের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অপপ্রচার

ময়মনসিংহে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে দলের দুই কর্মীর মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, একটি ছোটখাটো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে বিএনপির অভ্যন্তরে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে একই সঙ্গে দলীয় কর্মী ও নেতাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের মধ্যে দলের দুই নেতাকর্মীর মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এতে অনুষ্ঠানের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের শান্ত হওয়ার এবং নিজেদের মধ্যে বিরোধ না বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন।

তবে বারবার অনুরোধের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান। ওই সময় তাকে থামানোর উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী তার নাম জানতে চান এবং কঠোরভাবে সতর্ক করেন। উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, প্রতিমন্ত্রী তাকে গালাগাল বা কোনো ধরনের অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করেননি; বরং পরিস্থিতি যাতে আর উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য তাকে ভয় দেখিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টের কোনো কোনোটি ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর আচরণই মূল সমস্যা এবং তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীর বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিমন্ত্রীর ওই সময়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল। তাদের মতে, তিনি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে তর্কাতর্কি আরও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারত।

সংশ্লিষ্টদের আরও দাবি, বিএনপির প্রতি আনুগত্য ও দলের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকলে কোনো নেতাকর্মীরই দলীয় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়। মতবিরোধ থাকলেও তা ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সমাধান করা প্রয়োজন। একটি অনুষ্ঠানে এসে গন্ডগোল সৃষ্টি করে পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই দলীয় শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তারা মনে করেন।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টিতে আগ্রহী একটি মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য প্রচার করছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরি হয়।

তাদের দাবি, বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার দাবি করে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা কোনোভাবেই দলের জন্য ইতিবাচক নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার অসম্পূর্ণ বা একপাক্ষিক উপস্থাপন দলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ময়মনসিংহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা মোকাবিলায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে অনুষ্ঠানের কয়েকজন সিনিয়র কর্মী বলেন, বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করলে ঐ অনুষ।ঠানে বড়ধরনের ঘটনা ঘটতো। যা মন্ত্রীর কারনে রক্ষা পেয়েছে। এবং পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রনে এসেছে।