ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ১২:৪৩:১৬ AM

জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের ওপর গুরুত্বারোপ ফারুকের

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
01-10-2026 09:56:11 PM
জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের ওপর গুরুত্বারোপ ফারুকের

বিএনপি পার্টির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

ফারুক তার  বক্তব্যে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার হাত শক্তিশালী করার চেয়ে জনগণের হাত শক্তিশালী করাই রাষ্ট্র ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করলেও সাধারণ জনগণকে ব্যাপকভাবে মাঠে নামানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ছাত্রদের নেতৃত্বে কোটা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, ওই আন্দোলনে পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিও একটি অভিন্ন লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিল।

২০-দলীয় জোট, ১২-দলীয় জোট এবং যুগপৎ আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বক্তা বলেন, রাজনৈতিক কৌশলের কারণে বিভিন্ন দল পৃথক প্ল্যাটফর্মে থেকেও একই দাবিতে আন্দোলন করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ৩১ দফা কর্মসূচিও সে প্রক্রিয়ার অংশ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ধর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গে বক্তা বলেন, ধর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনা দুটি পৃথক বিষয়। তাঁর মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য, ভৌগোলিক পরিচয়সহ বিভিন্ন উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণার কথা তুলে ধরেন এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা জানান।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট, ঋণ এবং অর্থপাচারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বক্তা বলেন, ব্যাংকের অর্থ মূলত জনগণের আমানত। তাই গ্রাহক যেন প্রয়োজনের সময় নিজের আমানত তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রসঙ্গেও বক্তা কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন, তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরে এসে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

বক্তা আরও বলেন, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি আইনবহির্ভূত গুম-খুনের বিরোধিতা করেন এবং বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন।

রাজনীতিকে ত্যাগের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রশংসা করেন। একই ধরনের জাতীয়তাবাদী চেতনা তিনি জিয়াউর রহমানের মধ্যেও দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে অতীতে তাঁর কথোপকথনের একটি বিবরণ তুলে ধরে বক্তা বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সময় তাঁকে ধৈর্য ধরে জনগণের ভোটের পক্ষে জনমত তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। একই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়েও একটি মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি।