ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
সময়: ০৭:৩২:৫৩ PM

জ্বালানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
29-06-2026 04:56:45 PM
জ্বালানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

গত শীত মৌসুমে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। একদিন বা দুইদিন নয়, টানা চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটের কারণে রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য পরিবার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারেনি। এমনকি শীত মৌসুম শেষ হওয়ার পরও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক এলাকায় নতুন পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় শহরাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি একটি অপরিহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে।

সংকটের সময় বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামেও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। কোথাও কোথাও ভোক্তাদের অতিরিক্ত কয়েকশ টাকা গুনেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এতে বহু পরিবারের রান্নাবান্না ব্যাহত হয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

এলপিজির তীব্র সংকটের মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে আমদানিকারক ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বাজার পরিস্থিতি, সরবরাহব্যবস্থা এবং সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে সময় লাগে।

এদিকে সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, বাজার বিশ্লেষক এবং ভোক্তা সংগঠনের একাংশের দাবি, এটি কেবল আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বা সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সৃষ্টি হয়নি; বরং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠে আসে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে ব্যবসায়ী নেতা সিরাজুল মাওলা এবং তৎকালীন জ্বালানি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলপিজি খাতকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। আমদানি, মজুত, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেশে এলপিজির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তাই এই খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ।