ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৩:৪৩:৩৮ AM

বন্ডের ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামাল নিখোঁজ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
06-10-2026 12:28:37 PM
বন্ডের ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামাল নিখোঁজ

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বন্ডেড এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এসব কাঁচামালের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে রয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রামের ৫৯০, কর্নেল জোন্স রোড, উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী এলাকার কারখানা ও বন্ডেড গুদামে পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা বিভিন্ন কাঁচামালের মজুত ও ব্যবহারের তথ্য যাচাই করা হয়।

জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেড বন্ড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিপিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড এবং রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে।

পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড গুদামে থাকা কাঁচামালের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড গুদামে মোট ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। তবে সরেজমিনে গুদাম পরিদর্শন করে পাওয়া যায় মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি কাঁচামাল।

অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী গুদামে থাকার কথা থাকলেও ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। বিপুল পরিমাণ এই কাঁচামালের ঘাটতির বিষয়টি বর্তমানে তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী গুদামে পাওয়া না যাওয়া এসব কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক-কর বাবদ সরকারের পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা। ফলে কাঁচামালের এই ঘাটতির কারণে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে।

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা এত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল কীভাবে গুদাম থেকে উধাও হলো, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কাঁচামালগুলো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—তা যাচাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বন্ডসংক্রান্ত নথিপত্র, আমদানি ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য এবং গুদামের প্রকৃত মজুতসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে কাঁচামালের ঘাটতির প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।