বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নে কাসেম শাহ ফকিরের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ছেলে আবুল হোসেন শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে কাসেম শাহ ফকিরের চার মেয়ে—ফিরোজা, সাফিয়া, আম্বিয়া ও কাজল—তাঁদের পিতার সম্পত্তিতে প্রাপ্য অংশ বুঝে পাচ্ছেন না।
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের পিতা কাসেম শাহ ফকিরের মৃত্যুর পর বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাঁদের অভিযোগ, বড় ছেলে আবুল হোসেন শাহ ফকির সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং চার বোন তাঁদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
সালিশ ও থানায় অভিযোগ, তবুও সমাধানের দাবি
ভুক্তভোগী চার বোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং তাঁদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার বিষয়ে তাঁরা এখনো সমাধান চান।
দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ন্যায়সংগত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি
পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ, নামজারি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা জরুরি। প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বৈধ উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
ফিরোজা, সাফিয়া, আম্বিয়া ও কাজলের দাবি, তাঁদের পিতার সম্পত্তিতে আইন অনুযায়ী যে অংশ প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে আবুল হোসেন শাহ ফকিরের বক্তব্য এবং সালিশ ও থানায় করা অভিযোগের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী চার বোনের প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই সম্পত্তি বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হোক এবং আইন অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক।