ঢাকা, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬,
সময়: ১০:৪৪:৩৮ PM

অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয়

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
08-05-2026 09:11:26 PM
অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয়

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল অবশেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে সিনেমা থেকে রাজনীতিতে সফল রূপান্তরের দীর্ঘ ঐতিহ্যে নতুন নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে তার। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় টানা চার দিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নাটকীয়তার পর অভিনেতার চেন্নাইয়ের বাড়ির বাইরে ‘টিভিকে, টিভিকে’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। কারণ, বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পেরেছেন বিজয়।জানা গেছে, বিজয় শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় সম্ভবত ৬টার দিকে তামিলনাড়ুর গভর্নর আর ভি আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ও সরকার গঠনের দাবি উপস্থাপন করবেন।

গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) অভিষেকেই বড় সাফল্য পায়। ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে দলটি টানা ৬২ বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী দ্রাবিড় দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা দেয়।তবে সেই জয়ের উচ্ছ্বাস বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গভর্নর আর ভি আরলেকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিশ্চিত না হলে তিনি টিভিকে প্রধান বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার- টানা দুই দিন বৈঠক হলেও গভর্নর নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি বিজয়কে জানান, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ১১৮ জন সদস্য প্রয়োজন, সেখানে ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে সরকার চালানো সম্ভব নয়।

গভর্নর স্পষ্টভাবে ১১৮ জন নির্বাচিত বিধায়কের সমর্থনপত্র চেয়েছিলেন। কিন্তু বিজয়ের নিজের দল টিভিকের ছিল মাত্র ১০৭ জন বিধায়ক, নিজেকে বাদ দিলে।
যেভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করলেন বিজয়

সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের অন্তত আরও ১০টি আসন প্রয়োজন ছিল। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ১১-তে দাঁড়ায়। কারণ তিনি ত্রিচি (পূর্ব) ও পেরাম্বুর— দুটি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন এবং শপথ নেওয়ার আগে একটি আসন ছাড়তে হবে।

এরপর কংগ্রেস থেকে তিনি আরও পাঁচজনের সমর্থন পান। কংগ্রেস তাদের মিত্র ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জন্ম দেয়।একই সঙ্গে বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) বা সিপিএম এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই)-এর সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেন বিজয়।

ভিসিকে, সিপিএম ও সিপিআই- এই তিন দলই আগে ডিএমকের মিত্র ছিল। তারা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের দলের সঙ্গে বিকল্প রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা করছিল। এর মধ্যে স্টালিনের পাশে থাকা কিংবা অনেকে যাকে ‘অপবিত্র জোট’ বলছিলেন, অর্থাৎ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এআইএডিএমকের সঙ্গে হাত মেলানোর বিষয়ও আলোচনায় ছিল।

তবে শুক্রবার দুপুরের পর রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়ে পড়ে, ভিসিকে এবং বাম দলগুলো শেষ পর্যন্ত বিজয়ের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।এই দলগুলোর কাছে ঠিক সেই সংখ্যক আসনই রয়েছে, যা বিজয়ের প্রয়োজন ছিল। ভিসিকে, সিপিএম ও সিপিআই- প্রতিটি দলের দুটি করে আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে তারা ছয়টি আসনের সমর্থন দিতে পারে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন সরকারে এই প্রতিটি দল একটি করে মন্ত্রিসভা পদ পেতে পারে।

অন্যদিকে কংগ্রেসও তাদের সমর্থনের বিনিময়ে দুটি মন্ত্রিত্ব প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে।ডিএমকে-এআইএডিএমকের ‘জোট’ নিয়ে জল্পনা

গত চার দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ডিএমকে ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগমের (এআইএডিএমকে) সম্ভাব্য জোট। দুটি দলই সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের প্রবক্তা ইভি ‘পেরিয়ার’ রামাসামির আদর্শে বিশ্বাসী হলেও বাস্তবে তারা একে অপরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই বড় দ্রাবিড় দলকেই একই ধরনের রাজনৈতিক শঙ্কা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল।ডিএমকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৭ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। সে সময় এম জি রামাচন্দ্রন জীবিত থাকা পর্যন্ত ডিএমকে কোনো নির্বাচন জিততে পারেনি।

অন্যদিকে এআইএডিএমকের ভয় ছিল আরও সাম্প্রতিক। দলটির একাংশ মনে করিয়ে দেয়, গত এক দশকে এম কে স্টালিনের কাছে টানা তিনটি নির্বাচনে হেরেছে তারা।

তবে শেষ পর্যন্ত ডিএমকে-এআইএডিএমকের কথিত ‘জোট’ বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রকৃতপক্ষে আলোচনা কখনো গুঞ্জনের বাইরে এগোয়নি। দুই দলেরই জ্যেষ্ঠ নেতারা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, উভয় শিবিরের আদর্শিক নেতাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে এমন জোট টিকে থাকা কখনোই সম্ভব ছিল না।