ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০১:৩৬:৫৬ PM

তৃণমূলের মূল্যায়নেই শক্তিশালী হবে বিএনপি

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
14-09-2026 12:16:41 PM
তৃণমূলের মূল্যায়নেই শক্তিশালী হবে বিএনপি

বিএনপি হারলে শুধু একটি রাজনৈতিক দল পরাজিত হবে—এমন চিন্তা থেকে নয়, বরং বিএনপির সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎও জড়িত—এই উপলব্ধি নিয়েই দলটিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে দলের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও আদর্শবান নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে থেকে দলকে সংগঠিত ও সক্রিয় রেখেছেন, তাদের অবদান উপেক্ষা করলে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় দলটি দুর্বল হলে তার প্রভাব সারাদেশের রাজনীতিতেও পড়তে পারে। তাই ঢাকার রাজনীতিতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করা এখন সময়ের দাবি। দলের নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে, রাজধানীর রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সাফল্য ধরে রাখা কঠিন।

গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকার রাজনীতিতে বিএনপিকে মাঠে ধরে রাখার ক্ষেত্রে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান দুদু, নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাইফুল আলম নীরব, তানভীর আহমেদ রবিনসহ শতাধিক নেতার গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তাদের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ত্যাগকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আগামী দিনগুলোতে এসব পরীক্ষিত নেতা যদি দলীয় অবহেলা, অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র কিংবা অন্য কোনো কারণে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়েন, তাহলে ঢাকার সাংগঠনিক রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে শুধু দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমই দুর্বল হবে না, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে নতুন কর্মী সংগ্রহের ওপরও জোর দিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে তাদের নেতৃত্বের বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে সক্রিয় করতে হবে। একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে হলে শুধু পুরোনো নেতৃত্বের ওপর নির্ভর না করে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বও তৈরি করতে হবে।

তবে নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি। উচ্ছৃঙ্খল, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা আদর্শচ্যুত ব্যক্তিদের দলে স্থান দেওয়া হলে তা দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা, আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিএনপিকে একটি সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বর্তমান সময়কে কাজে লাগিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগ থাকা বিএনপিপন্থী তরুণদের বিষয়েও দলীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যোগ্য তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দলের প্রতি তাদের আস্থাও বাড়বে।

সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতিও বিএনপিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থানসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট এখন মানুষের উদ্বেগের বড় কারণ। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করা জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও জনসম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা। পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন, যোগ্য নতুন নেতৃত্ব তৈরি, সদস্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা—এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে পারলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই আস্থা ধরে রাখতে হলে দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা, আদর্শ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই।