ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ১০:১০:৪৪ PM

শিক্ষাঙ্গনকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
26-08-2026 02:35:04 PM
শিক্ষাঙ্গনকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বাভাবিকতা ব্যাহত হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে দলীয় নেতা, সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রথা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দলীয় নেতাদের সভাপতি করার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দলীয় অঙ্গসংগঠনের মতো ব্যবহৃত হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বর্তমানে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের অনুসারীদের পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

শিক্ষকদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকলে শিক্ষক-কর্মচারীরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ তৈরি হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে মেধা, যোগ্যতা ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্ব পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের একাংশও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের আনাগোনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেড়ে গেলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ, পরীক্ষা, শৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ছাত্রীদের একটি অংশও এমন পরিস্থিতিতে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে। তাদের অধিকাংশের মত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা সরকারের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর ও স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের প্রস্তাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ কিংবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরপেক্ষতা বাড়বে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

তাদের আরও দাবি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সময়ের মতো যদি রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে লোক নিয়োগ করা হয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নতুন করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জায়গা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় পরিচালনা কমিটি গঠন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে যোগ্যতা, সততা ও নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।